প্রিয় বন্ধুরা আজকে আপনাদেরকে জানাবো ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনের সময়সূচী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচি এবং ভাড়ার তালিকা সহ এই সম্পর্কিত আরও বেশ কিছু বিষয় যেগুলো আপনাদের অনেকটা উপকারে আসবে।
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিদিন অনেকগুলো ট্রেন চলাচল করে থাকে তবে অনেকেরই সেগুলো ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়সূচী জানা নেই তাহলে চলুন নিচের অংশ থেকে সবগুলো ট্রেনের সময়সূচী সহ বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিয়ত ৮ টি ট্রেন চলাচল করে থাকে সেগুলো হলো: মহানগর প্রভাতী, পরাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, তূর্ণা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস এবং চট্টলা এক্সপ্রেস। সবগুলো ট্রেনের ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময়, বন্ধের দিন এবং কতক্ষণ সময় লাগে তা নিচে দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন | সময় লাগে |
|---|---|---|---|---|
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | সকাল ৭:৪৫ মিনিট | সকাল ৯:৪০ মিনিট | নেই | ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট |
| পরাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) | সকাল ৬:৩০ মিনিট | সকাল ৮:২৬ মিনিট | সোমবার | ১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট |
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) | দুপুর ৩:১০ মিনিট | বিকাল ৫:১৭ মিনিট | বুধবার | ২ ঘন্টা ০৭ মিনিট |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭) | সকাল ১১:১৫ মিনিট | দুপুর ১:১১ মিনিট | মঙ্গলবার | ১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | রাত ৯:২০ মিনিট | রাত ১১:২৮ মিনিট | রবিবার | ২ ঘন্টা ০৮ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | রাত ১১:১৫ মিনিট | রাত ১:১২ মিনিট | নেই | ১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) | দুপুর ২:৫৫ মিনিট | বিকাল ৪:৪৬ মিনিট | শুক্রবার | ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) | দুপুর ২:১৫ মিনিট | বিকাল ৪:১৯ মিনিট | শুক্রবার | ২ ঘন্টা ০৪ মিনিট |
শুধুমাত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় গুলোতে প্রতিটি ট্রেন চলাচল করে থাকে তাই অবশ্যই সময়সূচি মেনে ট্রেন যাত্রা করতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা উপরে উল্লেখিত সেই ৮ টিট্রেন চলাচল করে থাকে। সবগুলো ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি রয়েছে নিচে সেই সময়সূচী তালিকা দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন | সময় লাগে |
|---|---|---|---|---|
| মহানগর গোধূলি (৭০৩) | সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিট | রাত ৮:৪৫ মিনিট | নেই | ২ ঘন্টা ০০ মিনিট |
| পরাবত এক্সপ্রেস (৭১০) | রাত ৮:৩৪ মিনিট | রাত ১০:৪০ মিনিট | সোমবার | ২ ঘন্টা ০৬ মিনিট |
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১) | সকাল ৯:১৫ মিনিট | সকাল ১১:২০ মিনিট | বৃহস্পতিবার | ২ ঘন্টা ০৫ মিনিট |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৮) | বিকাল ৫:১৩ মিনিট | সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিট | বৃহস্পতিবার | ২ ঘন্টা ০২ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) | বিকাল ৪:৩০ মিনিট | সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিট | রবিবার | ২ ঘন্টা ১০ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | রাত ৩:১০ মিনিট | ভোর ৫:১০ মিনিট | নেই | ২ ঘন্টা ০০ মিনিট |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪) | সকাল ১০:৫১ মিনিট | দুপুর ১২:৫৫ মিনিট | শুক্রবার | ২ ঘন্টা ০৪ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) | সকাল ১০:২৯ মিনিট | দুপুর ১২:৪০ মিনিট | শুক্রবার | ২ ঘন্টা ১১ মিনিট |
যদি ট্রেন মিস করতে না চান তাহলে অবশ্যই এখানে উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়ের কিছুক্ষণ আগে রেল স্টেশনে গিয়ে পৌঁছাতে হবে।
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেন ভাড়া ২০২৬
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া যে সকল ট্রেন চলাচল করে থাকে এগুলো ট্রেনের মধ্যে বেশ কয়েকটি করে আসন বিভাগ রয়েছে আসন বিভাগ অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ হয়ে থাকে। নিচে ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলাচলকারী সবগুলো ট্রেনের আলাদা আলাদা ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
মহানগর প্রভাতী ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- ফাস্ট সিট – ২৫৯ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
- এসি সিট – ৩৯১ টাকা
পরাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- ফাস্ট সিট – ২৫৯ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
- এসি সিট – ৩৯১ টাকা
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
- এসি সিট – ৩৯১ টাকা
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
- এসি বার্থ – ৬৩৭ টাকা
তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
- ফাস্ট বার্থ – ৪৪১ টাকা
- এসি বার্থ – ৬৩৭ টাকা
কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার – ১৭০ টাকা
- স্নিগ্ধা – ৩২৮ টাকা
- এসি সিট – ৩৯১ টাকা
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেন স্টেশন লিস্ট
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া যে কয়টি ট্রেন চলাচল করে থাকে এগুলো ট্রেন বেশ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রা বিরতি নিয়ে থাকে সেই স্টেশন গুলোর নাম নিচে দেওয়া হলো:
- ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
- ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন
- নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন
- ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন
- আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলওয়ে স্টেশন
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৮টি ট্রেন চলাচল করে থাকে প্রতিটি ট্রেন কিন্তু এই একই রুট হয়ে চলাচল করে না। এবং এই রুটের ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত চলাচল করে।
ট্রেন ভ্রমনে যেগুলো বিষয় জানা প্রয়োজন
আপনি যদি ট্রেন ভ্রমণে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে বেশ কিছু বিষয়ে জানা প্রয়োজন যেগুলো জানলে আপনার ট্রেন ভ্রমণ হবে অনেক আনন্দময় এবং সুন্দর। ট্রেন ভ্রমণে যেগুলো বিষয় জেনে রাখা ভালো।
- যদি ট্রেনের সিট পেতে চান তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ রেলওয়ে এর ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করবেন।
- টিকিট সংগ্রহ করার পরে টিকিটের কপি আপনার মোবাইলে সেভ করে রাখবেন।
- অবশ্যই অন্যজনের থেকে কখনোই টিকিট কিনবেন না যদিও কম টাকায় দিতে চাই।
- আপনার বাজেটের উপর ভিত্তি করে ট্রেনের সিট নির্বাচন করতে হবে।
- আরামদায়কভাবে যাত্রা করতে চাইলে এসি সিট অথবা এসি বার্থ আসন নির্বাচন করুন।
- কম টাকায় যাত্রা করতে চাইলে শোভন বা শোভন চেয়ার আসন নির্বাচন করতে পারেন।
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন যাতে ট্রেন মিস না যায়।
- একটি স্টেশনে অনেকগুলো প্লাটফর্ম থাকে আপনি যে ট্রেনের মাধ্যমে যেতে চাচ্ছেন সেটা কত নাম্বার প্লাটফর্মে আসবে তা সেখানে থাকা ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখে নিবেন।
- ট্রেন ভ্রমণে অতিরিক্ত বেশি এবং ভারী মালপত্র না নেওয়াই ভালো।
- ট্রেনের মধ্যে যখন বসে থাকবেন তখন জানালার পাশে সাবধানে থাকতে হবে কোন ধরনের মোবাইল বা ক্যামেরা বাইরে না ধরা ভালো।
- ট্রেনের মধ্যে অপরিচিত কোন ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানিও গ্রহণ করবেন না।
- চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা বা ঝুলে থাকা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- যদি যাত্রা অনেক দূর হয় তাহলে সাথে করে কিছু শুকনো খাবার এবং পানি নিয়ে নিতে পারেন।
ট্রেনের মধ্যে যদি কোন ধরনের সমস্যা দেখেন তাহলে সেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের ডাকবেন। ট্রেন যাত্রায় এই বিষয়গুলো যদি আপনারা জেনে থাকেন এবং মেনে থাকেন তাহলে আপনাদের ভ্রমণ হবে অনেক সুন্দর।
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া কত কিলোমিটার
ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক পথে আনুমানিক দূরত্ব ৯৭.৯ কিলোমিটার। এবং ট্রেন পথে ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ১০০ কিলোমিটার। তবে সড়ক পথে দূরত্ব বিভিন্ন রুট হয়ে কিছুটা কম বেশি হতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
আশা করছি আপনারা আজকের এই আর্টিকেল থেকে জানতে পেরেছেন ঢাকা টু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া কত টাকা। আপনারা চাইলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে অনলাইন এর মাধ্যমেও টিকিট কাটতে পারবেন।
আর আজকের আর্টিকেলটি পড়ার পরে আপনার যদি এই বিষয়ে আরো কোন প্রশ্ন থাকে বা কোন কিছু জানতে চান তাহলে সেটা কমেন্ট করে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং এরকম আরো বিভিন্ন রুটের ট্রেনের সময়সূচী জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।







