ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ – ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের ভাড়া

ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়ার তালিকা সহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে এই পোস্টের মাধ্যমে জানানো হবে। যারা নতুন ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রা করবেন তাদের জন্য তথ্যগুলো অনেকটা উপকারে আসবে।

তাহলে চলুন নিচের অংশ থেকে জেনে নেওয়া যাক ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী এছাড়াও ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকিট কিভাবে কাটবেন, কতগুলো স্টেশন রয়েছে ও ঢাকা থেকে খুলনা এর দূরত্ব কত কিলোমিটার সকল বিষয়ে।

ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

ঢাকা টু খুলনা তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে থাকে সেগুলো হলো: সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস। এই তিনটি ট্রেন প্রতিদিন ঢাকা টু খুলনা নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করে থাকে নিচে সেই সময়সূচি দেওয়া হলো:

ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন সময় লাগে
সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬) সকাল ৮:০০ মিনিট দুপুর ৩:৪০ মিনিট বুধবার ৭ ঘন্টা ৪০ মিনিট
চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪) সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট ভোর ৪:৪০ মিনিট রবিবার ৯ ঘন্টা ১০ মিনিট
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (৮২৬) রাত ৮:০০ মিনিট রাত ১১:৪৫ মিনিট সোমবার ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট

এই ট্রেনগুলো প্রতিদিন একই সময়ে ঢাকা টু খুলনা চলাচল করে থাকে। আপনারা আপনাদের পছন্দ মতো সময়ে যেকোন ট্রেনের মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারেন

খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

খুলনা টু ঢাকা তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে থাকে। প্রতিটি ট্রেন একদম নির্দিষ্ট সময় ছাড়ে এবং গন্তব্যে পৌঁছায়। নিচে ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী, বন্ধের দিন ও কতক্ষণ সময় লাগে তা দেওয়া হলো:

আরো পড়ুন:  সিলেট টু ময়মনসিংহ বাসের সময়সূচী, ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম
ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন সময় লাগে
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (৮২৫) সকাল ৬:০০ মিনিট সকাল ৯:৪৫ মিনিট সোমবার ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট
চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩) সকাল ৯:০০ মিনিট সন্ধ্যা ৬:০৫ মিনিট রবিবার ৯ ঘন্টা ৫ মিনিট
সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫) রাত ৯:৪৫ মিনিট ভোর ৫:১০ মিনিট মঙ্গলবার ৭ ঘন্টা ২৫ মিনিট

প্রতিটি দিন সপ্তাহে একদিন করে বন্ধ থাকে তাই অবশ্যই ছুটির দিন ব্যতীত টিকিট কাটবেন। আর সিট পেতে চাইলে বেশ কয়েকদিন টিকিট সংগ্রহ করবেন।

ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের ভাড়া

ঢাকা টু খুলনা যে তিনটি ট্রেন চলাচল করে থাকে এগুলো ট্রেনের প্রতিটিতে আলাদা আলাদা তিনটি করে আসন বিভাগ রয়েছে প্রতিটি আসন বিভাগ অনুযায়ী ট্রেনের ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। নিচে প্রতিটি ট্রেনের আসন বিভাগ অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:

সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া

আসন বিভাগ টিকিট মূল্য
শোভন চেয়ার ৬২৫ টাকা
স্নিগ্ধা ১১৯৬ টাকা
এসি সিট ১৪৩২ টাকা

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া

আসন বিভাগ টিকিট মূল্য
শোভন চেয়ার ৬৮০ টাকা
স্নিগ্ধা ১৩০০ টাকা
এসি বার্থ ২৩৮৫ টাকা

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া

আসন বিভাগ টিকিট মূল্য
শোভন চেয়ার ৪৪৫ টাকা
স্নিগ্ধা ৮৫১ টাকা
এসি সিট ১০১৮ টাকা

ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকিট ২ টি উপায়ে সংগ্রহ করতে পারবেন একটি হলো সরাসরি স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে এবং আরেকটি হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে।

টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বললেই আপনাকে টিকিট কেটে দিবে কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে কাটতে চাইলে কিছু নিয়ম রয়েছে কয়েকটি ধাপে অনলাইন এর মাধ্যমে ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে যেভাবে টিকিট কাটবেন:

প্রথমে গুগলে সার্চ করে eticket.railway.gov.bd এই ওয়েবসাইটের মধ্যে যাবেন তারপরে ওয়েবসাইটের মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নেবেন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিবেন।

আরো পড়ুন:  ঢাকা টু কুমিল্লা বাস ভাড়া, সময়সূচী ও কাউন্টার নাম্বার

ওয়েবসাইটের হোমপেজে ঢাকা টু খুলনা রুট নির্বাচন করবেন তারপরে তারিখ নির্বাচন করবেন এবং আসন বিভাগ নির্বাচন করে ট্রেন সার্চ করবেন তাহলে সবগুলো ট্রেনের লিস্ট চলে আসবে।

যে ট্রেনের টিকিট কাটতে চাচ্ছেন সেই ট্রেনের নামের নিচে আসন বিভাগ অনুযায়ী টিকিট বুকিং অপশন দেখতে পাবেন সেখানে প্রেস করে পরবর্তী ধাপে যাবেন।

যে মোবাইল নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খোলা হয়েছিল সেই মোবাইল নাম্বারে ৪ সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে সেটা বসিয়ে ভেরিফাই করে নিতে হবে তারপরে আসন বিভাগ অনুযায়ী সিট নির্বাচন করতে হবে।

এবার যার জন্য টিকিট কাটা হবে তার কিছু তথ্য দিতে হবে যেমন নাম, মোবাইল নাম্বার এবং জিমেইল ঠিকানা। অবশ্যই সবগুলো সঠিক তথ্য দিতে হবে কোন ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না।

তারপরে যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং বা ইন্টারন্যাশনাল কার্ডের মাধ্যমে টিকিট এর পেমেন্ট করতে হবে। আপনার আসন বিভাগ অনুযায়ী যে টিকিটের মূল্য আসবে সেটা পরিশোধ করে দিবেন। তাহলে টিকিট কাটা সম্পন্ন হয়ে যাবে।

টিকিটের মূল্য পেমেন্ট করা হয়ে গেলে একটি অপশন থাকবে ভিউ টিকিট নামে সেখানে প্রেস করে টিকিটের অনলাইন কপি দেখতে পাবেন সেটা সংগ্রহ করে নিলেই সেই টিকিটের মাধ্যমে ঢাকা টু খুলনা ট্রেন ভ্রমণ করতে পারবেন।

ঢাকা টু খুলনা ট্রেন স্টেশন লিস্ট

ঢাকা টু খুলনা যে তিনটি ট্রেন চলাচল করে থাকে এই তিনটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশন হয়ে চলে এবং সেই স্টেশনগুলোতে কিছু সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নিয়ে থাকে। তিনটি ট্রেনের আলাদা আলাদা স্টেশন লিস্ট নাম গুলো নিচে দেওয়া হলো:

সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন লিস্ট

  • ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন
  • ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন
  • পাংশা রেলওয়ে স্টেশন
  • কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন
  • পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশন
  • আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন
  • চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন
  • দর্শনা হল্ট রেলওয়ে স্টেশন
  • কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন
  • যশোর রেলওয়ে স্টেশন
  • নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন
  • দৌলতপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • খুলনা রেলওয়ে স্টেশন
আরো পড়ুন:  ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী - ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের ভাড়া ২০২৬

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন লিস্ট

  • ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • ভাঙ্গা জংশন রেলওয়ে স্টেশন
  • কাশিয়ানী রেলওয়ে স্টেশন
  • লোহাগড়া রেলওয়ে স্টেশন
  • নড়াইল রেলওয়ে স্টেশন
  • সিঙ্গিয়া জংশন রেলওয়ে স্টেশন
  • নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন
  • খুলনা রেলওয়ে স্টেশন

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন লিস্ট

  • ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন
  • জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন
  • ইবরাহীমাবাদ রেলওয়ে স্টেশন
  • এস এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন
  • উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন
  • বড়াল ব্রীজ রেলওয়ে স্টেশন
  • চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশন
  • ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন
  • ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন
  • পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশন
  • আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন
  • চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন
  • কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন
  • যশোর রেলওয়ে স্টেশন
  • নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন
  • খুলনা রেলওয়ে স্টেশন

এই ট্রেনগুলো প্রত্যেকটি স্টেশনে সর্বনিম্ন ২ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত যাত্রা বিরতি নিয়ে থাকে তবে কিছু কিছু স্টেশন রয়েছে যেগুলো স্টেশনে কোন যাত্রা বিরতি নেই না।

ঢাকা থেকে খুলনার রেলপথের দূরত্ব কত

ঢাকা থেকে খুলনার রেলপথের দূরত্ব সর্বোচ্চ প্রায় ৪১২ কিলোমিটার এবং সর্বনিম্ন ২১২ কিলোমিটার। এখন আপনার প্রশ্ন করতে পারেন দূরত্ব দুই রকম হওয়ার কারণ কি আসুন বুঝিয়ে দিচ্ছি।

যদি ঢাকা থেকে খুলনা সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের মাধ্যমে জানতে হলে দূরত্ব হবে ৪১২ কিলোমিটার। আর যদি জাহানাবাদ এক্সপ্রেস এর মাধ্যমে যান তাহলে দূরত্ব হবে ২১২ কিলোমিটার।

কারণ শুধুমাত্র জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করে এজন্য শুধুমাত্র এই ট্রেনে দূরত্ব কম হয়ে থাকে। আর চিত্রা এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস যেহেতু অন্য রুট হয়ে যায় তাই দূরত্ব বেশি হয়ে থাকে।

লেখকের মন্তব্য

আশা করছি প্রিয় বন্ধুরা আপনারা জানতে পেরেছেন ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী সহ আরো অনেকগুলো বিষয়ে। অবশ্যই আপনারা নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী স্টেশনে পৌঁছাবেন এবং ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করবেন।

আপনাদের যদি ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেন সম্পর্কে আরো কোন কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করতে পারেন আমরা আপনাকে সেই বিষয়ে আরো জানানোর চেষ্টা করব। এরকম আরো তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করতে পারেন।

5/5 - (1 vote)
Sharing Is Caring:

Leave a Comment